মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত ও বোরকা নিষিদ্ধর উদ্যোগ

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ণ

সাইফুল ইসলাম, ইতালি প্রতিনিধিঃ ইতালির স্কুলগুলোতে সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এর সংখ্যা সীমিত করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বর্তমান মেলোনির সরকার। স্থানীয় সময়, রোববার দেশটির রাজধানী রোমে দলীয় যুব সংগঠন ‘Gioventù Nazionale’-এর আয়োজিত ‘Fenix’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের বাবা-মায়ের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর বিষয়টিও প্রস্তাবে থাকবে। এছাড়াও স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে মেলোনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে মুখ খোলা অবস্থায় থাকতে হবে। ইতালিতে কোনো ধর্মীয় অজুহাত বা সংস্কৃতির নামে একজন মেয়ের মুখ ঢেকে রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। নারী ও পুরুষের সমতার প্রশ্নেও কোনো আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Ad

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিষয়ে মেলোনি বলেন, কোনো ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যেখানে ইতালীয় শিশুরাই নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করে। ইতালিতে বর্তমানে একটি প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই সীমা বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। দেশটির জাতীয় স্কুলভিত্তিক সংগঠন ANP-এর সভাপতি আন্তোনেল্লো জানেল্লি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনার যোগ্য হলেও বাস্তবে এটি কার্যকর করা কঠিন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদেশি পরিবারের সংখ্যা বেশি, সেখানে শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুলে পাঠানোর বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া ইতালির কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মেলোনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির ভাসমান শহর ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকার একটি স্কুলে সব শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১০ জন ইতালিয়ান শিক্ষার্থী ছিলো। এতে ভাষাগত সমস্যা হওয়ায় ওই ১০ ইতালিয়ান শিক্ষার্থীও স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে চলে যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে পুরো ইতালিতে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।